তথ্য, জ্ঞান, ও প্রজ্ঞা: বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের মিথ বনাম অন্তর্দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা

আমেরিকান কবি টি. এস. এলিয়ট তাঁর দি রক কবিতায় তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকে আলাদা করে একটি কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন এই তথ্য ও জ্ঞানের যুগে - আমাদের “প্রজ্ঞা“ কোথায়? আমরা তো দোলনা-থেকে-কবর পর্যন্ত পড়ি। অনেক-অনেক বই পড়ি। উচ্চশিক্ষার স্তর পেরোই। ভারী ডিগ্রি নিই। কিন্তু এই তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞার বিভাজনে আমাদের নিজেদের অবস্থানটা কোথায় ভেবেছি কখনো? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিলে আমি তথ্যজীবী হবো কিংবা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিলে আমি প্রজ্ঞাবান হবো - বিষয়টা কি এমন? কিংবা স্ব-শিক্ষিত হলে আমি কি কোনো শ্রেণিতেই পড়বো না? ডিগ্রি অর্জনের সাথে প্রজ্ঞার আদৌ কি কোনো সম্পর্ক আছে? কিংবা পড়লে কী হয়? পড়লেই কি সব হয়?...

Sans civil and political rights, development is incomplete

Does development only mean progress on some economic and social indices? Is the concept distinct from civil and political rights?...

একটি অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নাগরিক হিসেবে আমার কর্তব্য কী?

একটি অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় নাগরিকদের প্রধান রাজনৈতিক কর্তব্য কী? তারা কী রাজনৈতিক আদর্শগত বিরোধী অবস্থানকে প্রধান গণ্য করে নিজেদের মধ্যকার বিবাদকে সর্বাগ্রে স্থান দিবে যেখানে অগণতান্ত্রিক শাসকগোষ্ঠী সুবিধা পায়? না-কি এ ধরনের বিরোধকে আপাত: গৌণ হিসেবে বিবেচনা করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা তথা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে প্রথম ও প্রধান ধর্তব্য হিসেবে বিবেচনা করবে? আমার… Continue reading একটি অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নাগরিক হিসেবে আমার কর্তব্য কী?

রুমিন ফারহানাদের ‘চিরকৃতজ্ঞতা‘ এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্রের লড়াই

১৯০৬ সালের মুসলিম লীগের রাজনীতির বাইরে গত ১১৪ বছরে বাংলাদেশে নতুন কোনো রাজনীতি দাড়ায়নি বা গড়ে উঠেনি। বর্তমান প্রধান দুটি দলের একটি আওয়ামী লীগ সেই মুসলিম লীগের আওয়ামী সংস্করণ এবং আরেক দল বিএনপি মুসলীম লীগের রক্ষণশীল অংশের সম্মিলন। আদর্শের বিচারে তারা কেউই নতুন রাজনীতি তৈরি করতে পারেনি। এক দল ১৯৭১ সাল নিয়ে রাজনীতি করেছে গত ৫০ বছর এবং আত্মহত্যাও করে ফেলেছে - এখন লাশ দাফনের বাকী। আরেক দল গত ৪০ বছর হাবুডুবু খেয়েছে নতুন পরিচয়ের সন্ধানে। এবং মুসলিম লীগের রক্ষণশীলতার শেকড় থেকে দূরে সরে গিয়ে তারাও মৃত্যুপথযাত্রী।

How democracy can fight fascism

The fascist ideologies are a self-destructing process. The problem is during their downfall, they take their entire nation down to the abyss.

বাংলা ও বাংলাদেশ ভাবনা

গণতন্ত্র ও বহু জাতিগোষ্ঠীর সহাবস্থান আপাত দৃশ্যমান বাস্তবতা হিসেবে হাজির হলেও, মোটাদাগে ধারণাটা রোমান্টিক। গণতন্ত্রের সূতিকাগার ইউরোপেই রাষ্ট্র বলতে আমরা যেটি দেখি সেটি বড়-বড় নৃগোষ্ঠীগুলোর এক-একটা সীমানা মাত্র। সেখানে ভিন্ন জাত-পাতের লোক থাকে, কিন্তু তারা সংখ্যায় স্বল্প, সত্যিকার অর্থেই সংখ্যালঘু। কিন্তু একাধিক বড় নৃগোষ্ঠীর সম্মিলন নিয়ে একটি বৃহৎ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর চিন্তাটা গোড়া থেকেই গলদ।

২০১৮ একাদশ জাতীয় নির্বাচন ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী রূপান্তর

৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে আমি একটি সংসদীয় আসনের একজন প্রার্থীর ক্যাম্পেইন পরিচালনা দলের সাথে গবেষণার আগ্রহ-জনিত কারণে যুক্ত থেকে নির্বাচনটিকে মাঠপর্যায়ে সরাসরি, ঘনিষ্ঠভাবে দেখার ও পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেয়েছি। সে আলোকে নির্বাচনে সংঘটিত ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট কারচুপির দৃশ্যসমূহ সরাসরি দেখার ও জানার সৌভাগ্য হয়েছে। নির্বাচনে বিরোধী… Continue reading ২০১৮ একাদশ জাতীয় নির্বাচন ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী রূপান্তর

Comments on the Prospect of US-Iran War

The speech of US Secretary of State Mike Pompeo at Heritage Foundation on 21 May 2018 reminds us the blatant admission of General Wesley Clark that IRAN is the final target of the US Middle East war game. Mike Pompeo's speech sounds like a prologue to another devastating Middle East war. His seemingly aggressive tone… Continue reading Comments on the Prospect of US-Iran War

নাগরিক সমাজ, উদার গণতন্ত্র ও সমাজ-বিবর্তন ধারা

কিন্তু নাগরিক সমাজের প্রকৃত স্বরূপটি কি? এটি কি রাষ্ট্রের অভিজাত ও উচ্চতর শ্রেণির ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের সংগঠিত রূপ? না-কি তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও কাঠামোর আওতা বর্হিভূত বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শক্তি? এ প্রশ্নগুলোকে সামনে রেখেই বাংলাদেশে বিকাশমান নাগরিক সমাজ এখনও তার আত্মপরিচয়ের সন্ধান করে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে যে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ প্রায়শই অবসরপ্রাপ্ত সামরিক-বেসামরিক আমলা ও অভিজাত শ্রেণির আধিক্যে নিজের গণমূখী চরিত্র ও পরিচয় গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে।

সমাজ-রাষ্ট্রে পরিবর্তন কখন ঘটবে, কেন ও কিভাবে ঘটবে

একজন ব্যক্তি নিজের বাস্তবতা, অবস্থান পরিবর্তন করতে তার জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় ব্যয় করে ফেলে। একটি নির্দিষ্ট সমাজের একগুচ্ছ মূল্যবোধ পরিবর্তন এরূপ শত, হাজারো ব্যক্তির শিক্ষা, অভ্যাস, আচরণ পরিবর্তনের বিষয়। সেজন্যই একটা সমাজ ব্যবস্থা কখনো এক, দুই বা দশ বছরে পরিবর্তিত হয় না। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম চলে যায়। একটা রাষ্ট্রের সামগ্রিক পরিবর্তন এরূপ শত-সহস্র সমাজের ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র পরিবর্তনের সমষ্টি। ক্ষমতার পট-পরিবর্তন ভিন্ন বিষয়, ব্লিপ বা সাময়িক একটি বিষয়। কিন্তু একটি রাষ্ট্রের রাজনীতি, সামাজিক মূল্যবোধ যেখানে  একটি সত্যিকারের কল্যাণমূখী, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ধারণা মানুষের অন্তর্জগতে প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে সামাজিক ন্যায়বিচারের ধারণা, সম-অধিকারের ধারণা, সহিষ্ণুতার পাঠ ব্যক্তি-পরিবারের নর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, সে লড়াই দীর্ঘ।